কিভাবে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া যায়



আমাদের আজকের টপিক কিভাবে পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়া যায়।এই বিষয়ে। আমি মানুষের প্রশ্ন গুলো আরো ভিন্ন ভাবে খুঁজতে চেয়েছিলাম মানে আমি জানতে চাইছিলাম পড়াশোনার মনোযোগ নিয়ে মানুষের আর কি প্রশ্ন থাকতে পারে। তখন দেখি
গুগলে কিছু মানুষ এইগুলো সার্চ করেই চলেছে। প্রশ্ন গুলো যেমন;
পড়াশোনায় মন বসানোর উপায়,পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার ইসলামিক উপায়,পড়াশোনায় ভালো করার উপায়,পড়াশোনায় মনোযোগী হওয়ার দোয়া,পড়ায় মন বসে না কেন,মনোযোগী হওয়ার উপায় কি?,সারাদিন পড়ার উপায়,কাজে মনোযোগী হওয়ার উপায়,পরীক্ষায় ফার্স্ট হওয়ার উপায়,কিভাবে মেধাবী হওয়া যায়,চালাকি করে পড়ার উপায়,মনোযোগ বৃদ্ধির ঔষধ।

আমি এর ভিতর থেকে কিছু প্রশ্ন দেখে হাসছি,তবে পড়াশোনা করতে হয়তো খুব কম মানুষই আছে যাদের ভালো লাগে। তবে কিছু টিপস আছে যা অনুসরণ করে চললে পড়াশোনায় মন বসবে এবং ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে।

এনার্জি লেবেল: পড়াশোনা করতে আপনার যেটা প্রয়োজন সেটা হচ্ছে আপনার এনার্জি লেবেল। আপনি আপনার ম্যান্টালি কতটুকু প্রস্তুত পড়াশোনা করার জন্য সেটা আপনাকে ভাবতে হবে। আপনার এনার্জি কম থাকলে পড়াশোনা করতে মন বসবে না। এবং তখন আপনার শরীরের আরাম প্রয়োজন হবে।তাই এনার্জি লেবেল বাড়াতে হবে তাহলে পড়াশোনার ক্ষেত্রে আপনি ভালো একটা পাওয়ার ফুল মনোযোগ আনতে পারবেন। আপনার এনার্জি ধরে রাখার জন্য কিছু টেকনিক অনুসরণ করতে পারেন দীর্ঘ সময় ধরে কোন কাজ, হতে পারে সেটা কলেজের ক্লাস অথবা অফিসের ।আপনি এক ঘন্টা অথবা আধা ঘন্টা পর (আপনার শরীরটা একটু ঘুরিয়ে নিন যেমনটা অনেকসময় অলস থাকার পরে করেন)অথবা পাঁচ মিনিট হাঁটুন ।আর সব থেকে ভালো হয় প্রতিদিন শরীরের ব্যায়াম করা। প্রতিদিন আপনার শরীর এবং মন অর্থাৎ মস্তিস্ক সুস্থ ও স্বতেজ রাখার জন্য (প্রাপ্ত বয়েস্ক ৭/৮ ঘন্টা) ঘুম পড়েন তাহলে আপনার শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে।সব থেকে বড় বিষয় হলো শরীর ও মন ভালো থাকলে যেকোনো কাজে মন বসে এবং কাজ করতেও ইচ্ছে করে। খাওয়ার বিষয়টা এনার্জি লেবেল জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।একটা নির্দিষ্ট খাওয়ার সময় বেছে নিন যে আপনি প্রতিদিন ঐ সময় খাবেন এবং এনার্জি বাড়াতে কিছু প্রয়োজনীয় খাবার যা আপনার খাবার তালিকায় রাখতে হবে যেমন সুষম খাবার।

পরিবেশ নির্বাচন: আপনি কোন পরিবেশে কাজটা করছেন সেটাও আপনার জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি যখন পড়তে বসবেন পাশে টেবিল ল্যাম্প বা একটু আলো বেশি পড়বে সেরকম পরিবেশ নির্বাচন করবেন। এরকমটা অনেকের ক্ষেত্রে হয় পাশে কথা বললে সে পড়তে পারে না বা পাশে কোন কিছু হলে তার পড়ার মনযোগ বিচ্ছিন্ন ঘটে এর কারণে আপনি নিজেকে এমন একটা পরিবেশের ভিতরে নিয়ে যান যেখানে আপনার পড়তে ভালো লাগবে ।পাশে পড়ার টেবিল থাকবে। অনেকগুলো বই থাকবে ।যেগুলো হয়তো একাডেমিক বই হলেও চলবে অথবা আপনার পছন্দের বই গুলো রাখতে পারেন মাঝে মধ্যে পড়তে পারেন অথবা পড়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। তাই আমাদের পড়ার জন্য এমন একটা জায়গা সিলেক্ট করতে হবে যেখানে আপনার পড়ার নিজের মতো করে পরিবেশ তৈরি হবে।

ফোকাস:ফোকাস মানে আমরা বুঝি কোন কিছুর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যা আমাদের মস্তিষ্কে ধরে রাখে এবং মনোযোগী করে তোলে। তবে এটা সত্যি যে কোন কিছুর প্রতি অধিক সময় ফোকাস করা যায় না। তবে কিছুক্ষন ফোকাস ধরে রাখতে আমরা কিছু টেকনিক অনুসরণ করতে পারি। কোন কাজ অথাবা পড়াশোনা করতে আমরা একটানা ৩০ মিনিট পড়তে পারি অথবা ২৫ মিনিট এরপর একটু ব্রেক নিতে পারি সেটা হতে পারে পাঁচ মিনিট অথবা দশ মিনিট।একটু কাজ বা পড়া আবার একটু রেস্ট এইভাবে আমরা অধিক সময় ফোকাস ধরে রাখতে পারি। আপনি এটার জন্য একটি কাজ করতে পারেন। যে কাজটি হলো আপনার পড়ার টপিক গুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন এর ফলে আপনি অল্প সময়ে সেই কাজগুলোর প্রতি মনোযোগ দিতে পারবেন এবং আপনার পড়াশোনার চাপ কমবে। তবে আপনার এটা মনে রাখতে হবে আপনি যখন একটি কাজ শুরু করবেন তখন অন্য কাজের প্রতি মনোযোগ দিবেন না। যার ফলে কি হবে আপনার ফোকাস করার ক্ষমতা কমে আসবে এবং আপনি একসাথে অনেকগুলো কাজ করলে আপনার সেই ফোকাস থাকবে না।এই জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ সিলেক্ট করে সেই কাজটি সম্পন্ন করে অন্য কাজ করুন।

ভার্চুয়াল জগত: এখনকার সময় আমরা সবাই ভার্চুয়াল জগতের একজন করে সদস্য বলা যেতে পারে। এই ভার্চুয়াল জগতে আমরা সবাই ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত যার কারণে আমাদের পড়ানোর সময় ফেসবুক এবং ইউটিউবের ভিডিও দেখা এবং অন্যান্য কাজ করার জন্য মনোযোগ চলে যায়।যার ফলে কি হয় আমরা যে কাজটি করতে চাই সেই কাজের প্রতি আর ফোকাস দেওয়া হয় না।তাই পড়ার সময় ফোন,ল্যাপটপ,কম্পিউটার, টেলিভিশন মানে যেগুলোতে ভার্চুয়াল জগতের সাথে জড়িত সেগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে আমাদের ফোন সুইচ অফ করতে হবে অথবা এরোপ্লেন মুডে রাখতে হবে।

আরো পড়ুন,

এই শহরটা জানে আমার কোন বন্ধু নেই

শিশির বিন্দু (প্রথম পর্ব)

সেইভ ম্যান ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড

আগ্ৰহ: সবসময় পড়াশোনা করতে এবং যেকোনো কাজের প্রতি একই কাজ সব সময় করতে বোরিং ফিল মনে হয়। এটার জন্য আমাদের প্রথম সিলেক্ট করতে হবে আমরা কোন বিষয় পড়তে বেশি আগ্রহ বোধ করি এবং কোন বিষয়টা পড়লে আমাদের সবথেকে মনোযোগ আকর্ষিত হবে। আমাদের এই আগ্রহ তাকে ধরে রাখার জন্যে পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু কাজ করতে হয় যেমন খেলাধুলা একটা সময় বেছে নিতে হবে যে সময় আপনি খেলাধুলা করবেন বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবেন কফি খেতে যাবেন তাহলে কি হবে আপনি পরবর্তীতে যখন পড়তে বসবেন তখন সেই পড়ার প্রতি মনোযোগ ও কাজের আগ্রহ থাকবে।

কতটুকু সময়: আপনি এই ফোকাসটা কতটুকু সময় ধরে রাখতে পারবেন এটাও কিন্তু আমাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেটা ফোকাস সম্পর্কে আমি পূর্বেই আলোচনা করেছি। আমাদের সব সময় এই ফোকাস টাকে ধরে রাখার জন্য অভ্যাস তৈরি করতে হবে অভ্যাস না থাকলে আপনার ফোকাস হারিয়ে যাবে আপনি প্রতিদিন বই পড়ার অভ্যাস যেমন তৈরি করবেন এবং একই কাজের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য এই রুটিন ফলো করবেন যার ফলে আপনার ঐ ফোকাস টা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং আপনার ফোকাসটা ধরে রাখলে আপনি সেই কাজটা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবেন।

Next Post Previous Post