মাঝরাতে একদিন

মাঝরাতে একদিন

মানুষের জীবন এমন কিছু সময় দিয়ে বাঁধা থাকে সুখের সময় যেমন উপভোগ করতে হবে তেমনি তার বিপরীতে দুংখের সময় উপভোগ করতে হবে। কিন্তু মানুষ সুখের সময়টা আনন্দ ভাবে নেয় কিন্তু দুঃখের সময় নেয় একমুখী দুংখের সময়। সেদিন বেশিদিনের কথা নয় মাঝরাতে একদিন আমার মনে পড়ে গেল ছোটবেলার কথা সেই ছোটবেলায় সৃতিমাখা পরিবেশের দিনগুলো কেমন ছিল।সেইসময় যারা ছিল তারা এখন নেই ,নেই সেই দিন গুলো।আজ সময় বদলেছে সময়ের সাথে সাথে দিন ও বদলেছে।এই মাহান দিনগুলোর মধ্যে আজ সেই বাস্তবতা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে।তখন আমার বাবা বাড়ি ছিল না,এক কথায় বলতে গেলে আমি ছোট বেলায় বাবার আদর কখনো পায়নি সে এক অন্য কথা।সে কথা বলব অন্যদিন।সেই সময়ে আদের ইটের তৈরি ফাঁকা বাড়িতে আমার ঠাকুমা তার ঘরে থাকতে এবং তার পাশের বাড়িতে আমি এবং আমার মা।আমি তখন ছৈট বয়সটা হবে সাত আট বছর। কিছু দিনগুলি আমার কাছে যেমন স্পষ্ট তেমনি অস্পষ্ট কিছু স্মৃতি।তখন আমার মার আমাকে নিয়ে রাতে শোয়ার সময় একটু ভয় করত তখন এক পিসি থাকত আমাদের বাড়িতে ঠিক নিজের পিসি নয় তবুও একটা কথা বলতে হয় রক্তের সম্পর্ক শেষ সম্পর্ক নয়।তাই সেই পিসি আমাদের গুষ্টির সহিত মিশিয়ে আছে তবে নিজের পিসি নয়।সেও খুব অসহায়।তার সংসার কোন এক অশান্তির কারনে আজ তার বাপের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে ছোট একটা কুড়ে ঘরে হয়তো কখনো কখনো তারা ভাইয়ের বাড়ির তার বউদিদের হাতে কখনো কখনো কথা শুনতে হচ্ছে।তাই মাঝে মধ্যে আমার মা তাকে আমাদের বাড়িতে থাকার জন্য বলত এবং রাতের বেলা আহারের আয়োজন থাকত।সেই পিসি ভালো গান করত।রাতের শোয়ার আগে আমার ঘুম না আসা পর্যন্ত সে গান করতে থাকত আর বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আমার মায়ের তালপাতা পাখার বাতাস দিত।সেই পিসির গান যেন এই মধ্যোরাতে আজ আমার কানে বাজে ওগো দাড়িয়াল ভাই তারপর জীবন নামের রেলগাড়িটা।সেই সময়ের সৈই অনুভূতি আজ আর নেই আজ আমি একা রাতে ঘুমায় কেউ আর আগের মতো বাতাস করে না কেউ আগের মতো গান গেয়ে ঘুম পড়ে না।আজকের এই গরম আমার শরীর শয়ে নিয়েছে।আর গান ছাড়া ঘুম হয়তো আমার চোখের দুপাতা কখন এক হয় তা বূঝে উঠতে পারি না।আজ শুধু হঠাৎ একদিন মাঝরাতে আমার এই সৃতিচারন কথা শুধু শুয়ে শুয়ে ভাবায় আর চোখের দুই কোন থেকে অশ্রু ঝরে।আমি কখনো হয়তো সেই দিন গুলো সেই মানুষ গুলো ফিরে পাবো না তবুও সেই ভালোবাসার পখার‌ বাতাস ও গান কোনদিন ভুলব না।

Next Post Previous Post